
সোহানুর আহম্মেদ তোতা, হরিণাকুণ্ডু প্রতিনিধি :
আষাঢ় মাসের ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও দেখা নেই বৃষ্টির। বইছে তাপপ্রবাহ সহ কাঠফাটা রোদ। এতে গরমে অস্বস্তিতে রয়েছে মানুষ। এর সঙ্গে ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে পাল্লা দিয়ে শুরু হয়েছে লোডশেডিং। দিনে-রাতে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা। তারা নিজেদের ক্ষোভের কথা জানাচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, গরম লোডশেডিংয়ে বেশি বিপদে পড়েছে উপজেলার কয়েক হাজার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থী। ৩০ জুন এ পরীক্ষা শুরু হবে। শিক্ষার্থীরা রাত-দিন এক করে সেরে নিচ্ছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। তাদের এ প্রস্তুতিতে বাদ সেধেছে ঘন ঘন লোডশেডিং। এতে ভালো ফলাফল নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে শিক্ষার্থীরা।
রবিউল ইসলাম নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী জানায়, ক'দিন পরেই পরীক্ষা। এখন শেষ সময়ের প্রস্তুতি নিচ্ছি। কিন্তু দিন-রাত মিলে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে তীব্র গরমে পড়াশোনা করতে পারি না। সারা রাত গরমে ঘরের বাইরে বসে থাকতে হয়। ঘুমাতেও পারি না।
গত সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শহর অঞ্চলে অন্তত ছয় ঘণ্টা লোডশেডিং দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। তবে গ্রামাঞ্চলে এর মাত্রা আরও বেশি। এক ঘণ্টা পর পর গ্রামে লোডশেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ অনেকের। এতে গরমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। দিনমজুর থেকে ভ্যানচালক, ব্যবসায়ী থেকে কর্মজীবী, শিক্ষার্থী কিংবা শিশু-কিশোর সবার মধ্যে অস্বস্তি বিরাজ করছে। দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে পারছেন না নিম্ন আয়ের মানুষ।
মঙ্গলবার বিকেলে ভাড়ায় চালিত পাখি ভ্যান নিয়ে বের হয়েছিলেন ফজলুর রহমান। তবে যাত্রী না থাকা ও প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে কিছুটা স্বস্তির পেতে হরিণাকুণ্ডু শহরের একটি দোকানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেখানে বৈদ্যুতিক পাখার বাতাসে পরশ পাওয়ার আশায় ছিলেন তিনি। তবে বিদ্যুৎ না থাকায় অস্বস্তি কাটেনি তাঁর।
ফজলুর রহমানের ভাষ্য, 'গরমে বাইরে বের হতে পারি না। ঘরে স্ত্রীসহ তিন সন্তান রয়েছে। নিজের জায়গা-জমি নেই। অন্যের ভ্যান চালিয়ে ২৫০-৩০০ টাকা আয় হয়। তা দিয়ে চলে পাঁচজনের সংসার। এক দিন বের না হলে সংসারে চুলা জ্বলে না। আজ ঘরে চাল-ডাল না থাকায় বিকেলে বের হয়েছিলাম আয়ের আশায়। তবে যাত্রী নেই। গরমে ভ্যানও ঠিকমতো চালাতে পারছি না। সারা রাত বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুমাতেও পারি না।'
জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে উপজেলায় তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে রয়েছে। এর সঙ্গে ভ্যাপসা গরম আর তীব্র রোদ। পাশাপাশি বিদ্যুতের আসা-যাওয়াও চলছে। তবে দ্রুত সংকট কেটে যাবে বলে দাবি পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির হরিণাকুণ্ডু সাব-জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, উপজেলায় ৫৫ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। ছয়টি ফিডারের মাধ্যমে এসব গ্রাহকের বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এখানে গড়ে প্রতিদিন ১১ থেকে সাড়ে ১১ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। তবে এর বিপরীতে মিলছে মাত্র ৫ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিং হচ্ছে।







































