
রাজধানী ঢাকায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে কোরবানির পশুর হাট। যদিও গতকাল মঙ্গলবারও (১১ জুন) অস্থায়ী হাটগুলোতে বিপুলসংখ্যক পশু দেখা গেছে। কিন্তু কেনবেচা শুরু হয়নি। প্রতিদিনই হাটগুলোতে পশু আসছে।
এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় স্থায়ী-অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ১৮টি হাট বসছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ৬টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) বসবে ১০টি হাট। এর বাইরে ডিএনসিসির গাবতলী ও ডিএসসিসির সারুলিয়ায় আরও দুটি স্থায়ী পশুর হাট রয়েছে।
সিটি করপোরেশনের ইজারার শর্ত অনুযায়ী, ঈদের চার দিন আগে হাট বসাতে পারবেন ইজারাদাররা। সেই অনুযায়ী আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে হাট।
রাজধানীর বেশ কয়েকটি অস্থায়ী পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, হাটগুলো বিপুলসংখ্যক পশুর সমাগম ইতোমধ্যে ঘটেছে। তবে ব্যাপারীরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। উৎসুক মানুষ ভিড় করে পশু দেখছেন।
মেরাদিয়া হাটে কুদ্দুস নামের একজন ব্যাপারী জানান, তিনি ঝিনাইদহ থেকে এসেছেন। ১৮টি গরু নিয়ে এসেছেন। বিভিন্ন সাইজের গরু। সর্বনিম্ন দেড় লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১২ লাখ টাকার গরু রয়েছে তার কাছে।
এক লাখ টাকার নিচে তার কাছে গরু নেই জানিয়ে ব্যাপারী কুদ্দুস বলেন, ‘শুধু আমার কাছে নয়, পুরো হাটেই এক লাখ টাকার নিচে গরু পাবেন না।’
আরেকজন ব্যাপারী রফিকুল এসেছেন কুষ্টিয়া থেকে। তিনি এনেছেন বিভিন্ন সাইজের ৮টি গরু। রফিকুল জানান, এবার গরুর দাম বেশি। কারণ গরু পালনের খরচ বেড়েছে। খাবার থেকে শুরু করে সব কিছুরই দাম বাড়তি। ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি জানান রফিকুল।
রাজধানীর পশুর হাটে অন্যান্য পশুও দেখা গেল। গাড়ল ও ভেড়ার সর্বনিম্ন দাম ১৫ হাজার টাকা। আর খাসির সর্বনিম্ন দাম ২৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে গাবতলীর হাটসহ কিছু হাটে উটও তোলা হয়েছে, দাম চাওয়া হচ্ছে ২০ লাখ টাকা। আর কিছু দুম্বাও রয়েছে, যেগুলোর দাম ৩ লাখের কম নয়।
মেরাদিয়া গরুর হাটে গরু দেখতে এসেছেন সালমান নামের এক যুবক। একটি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সালমান বলেন, ‘দেখতে এসেছি। কিনব পরে। এত আগে পশু কিনে রাখার জায়গা নেই।’
উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মৈত্রী সংঘ ক্লাবসংলগ্ন খালি জায়গা অবস্থিত গরুর হাটে গিয়েও একই চিত্র দেখা যায়। অনেক পশুর সমাগম ঘটেছে, কিন্তু বেচাকেনা নেই।
সিটি করপোরেশন-সংশ্লিষ্টরা জানান, এবারের ঈদে মোট ২০টি হাট ইজারায় দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল দুই সিটি করপোরেশন থেকে। কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশনাসহ নানা কারণে অস্থায়ী হাটের সংখ্যা কমেছে। আফতাবনগরে হাট বসানো নিয়ে দুই সিটি করপোরেশন দরপত্র আহ্বান করেছিল। কিন্তু উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় তা বন্ধ আছে।
যেসব স্থানে ডিএনসিসির ৬টি হাট: উত্তরা দিয়াবাড়ীর ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টরসংলগ্ন খালি জায়গা, তেজগাঁওয়ের ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসংলগ্ন খালি জায়গা, খিলক্ষেত মস্তুল চেকপোস্ট ও তার পাশের পশ্চিমপাড়ার খালি জায়গা, মিরপুর সেকশন-৬ (ইস্টার্ন হাউজিং)সংলগ্ন খালি জায়গা, ভাটারা সুতিভোলা খালসংলগ্ন খালি জায়গা এবং মোহাম্মদপুরে বছিলা পশুর হাট।
ডিএসসিসির ১০ হাট: হাজারীবাগের ইনস্টিটিউট অব লেদার টেকনোলজি কলেজসংলগ্ন খালি জায়গা, খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়া বাজারসংলগ্ন খালি জায়গা, রহমতগঞ্জ ক্লাবের কাছের খালি জায়গা, উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মৈত্রী সংঘ ক্লাবসংলগ্ন খালি জায়গা, পোস্তগোলা শ্মশানঘাটসংলগ্ন খালি জায়গা, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দনিয়া কলেজসংলগ্ন খালি জায়গা, ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনালসংলগ্ন খালি জায়গা, আমুলিয়া মডেল টাউনের আশপাশের খালি জায়গা, শ্যামপুর কদমতলী ট্রাকস্ট্যান্ডের কাছের খালি জায়গা এবং কমলাপুর স্টেডিয়ামসংলগ্ন খালি জায়গা।
এ ছাড়া রাজধানীর গাবতলী ও সারুলিয়ায় স্থায়ী দুটি হাটেও কোরবানির পশু বেচাকেনা চলবে।
ডিএসসিসির সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান গতকাল বলেন, ‘ইজারা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন হাট বসানোর প্রস্তুতি চলছে।’







































