
দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদ। আর চার দিন পরই উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির ঈদের আগে সরকারি চাকরিজীবীদের শেষ কর্মদিবস আজ। বেসরকারি অনেক অফিসও সরকারি ছুটির সঙ্গে মিল রেখে ছুটি দিয়েছে। ফলে ওইসব অফিসেও দেখা গেছে ছুটির আমেজ।
ঈদের আগের শেষ কর্মদিবসে সকাল থেকেই অনেক সরকারি অফিসে ঢিলেঢালা ভাব দেখা গেছে। অন্যান্য সময়ের মতো চিরচেনা কর্মব্যস্ততা ও জরুরি সভা নিয়ে কোনো তোড়জোড় দেখা যায়নি। অনেকের মধ্যে ছুটি নিয়ে লাঞ্চের আগের বের হওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। কেউ কেউ হাজিরা দিয়েই ছুটছেন গন্তব্যে।
মতিঝিলের বেশ কয়েকটি অফিস ঘুরে দেখা গেছে, কেউ কেউ হাজিরা দিয়েই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। কাউকে হাতব্যাগ আবার কাউকে লাগেজ নিয়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। বেশিরভাগ অফিসে কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা ছিল কম। অনেকে ঈদের ছুটির সঙ্গে আগে দুএকদিন ছুটে নেওয়ায় অফিস অন্যান্য দিনের তুলনায় ছিল অনেকটা ফাঁকা।
মতিঝিলে গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া এক কর্মকর্তা জানান, শেষ দিনে অফিসে একটু ঢিমেতাল ভাব থাকে। দুপুরের পর বাসের টিকিট। কীভাবে পরিবার নিয়ে গাড়ি ধরব সেই টেনশন কাজ করছে। তাই অফিসে হাজিরা দিয়ে চলে যাচ্ছি।
প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশ সচিবালয়েও এমন চিত্র দেখা গেছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে এলেও তাদের অধিকাংশের মুখে ছিল বাড়ি ফেরার প্রস্তুতির কথা। সচিবালয়ের সামনেও ছিল না দর্শনার্থীদের তেমন ভিড়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী সংখ্যা কমতে থাকে। আগাম ঈদ মোবারক জানিয়ে গন্তব্যে ছুটতে থাকেন কেউ কেউ।
ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসে অধিকাংশ সরকারি, বেসরকারি অফিসপাড়ায় বাড়ি যাওয়ার ব্যস্ততা দেখা গেলেও উল্টো চিত্র ব্যাংকগুলোতে।
রাজধানীর মতিঝিল, দৈনিক বাংলা, কাকরাইল, পল্টন ও বিজয়নগর এলাকার ব্যাংকগুলোতে ভিড় করেছেন গ্রাহকরা। প্রতিটি ব্যাংকের শাখায় টাকা জমা ও উত্তোলনে কাউন্টারের সামনে দেখা যায় গ্রাহকদের লম্বা লাইন। তাদের সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে ব্যাংক কর্মকর্তাদের।
মতিঝিল এলাকার বেশ কয়েকটি ব্যাংকে ঘুরে গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি ব্যাংকের এটিএম বুথেও গ্রাহকদের লাইন ধরে টাকা তুলতে দেখা গেছে।
এদিকে সকাল থেকেই গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন মানুষ। রেল স্টেশন, বাস টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে।
এবার টানা পাঁচ দিনের ছুটি মিলেছে সরকারি চাকরিজীবীদের। এর মধ্যে দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি আর তিন দিন ঈদের ছুটি। আগামী ১৭ জুন (সোমবার) দেশব্যাপী ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। এ হিসাব অনুসারে আগেই সরকারি ছুটির তালিকা নির্ধারণ করা হয়।
সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, কোরবানির ঈদের ছুটি শুরু হবে ঈদের আগের দিন অর্থাৎ ১৬ জুন (রোববার) থেকে, যা চলবে ১৮ জুন (মঙ্গলবার) পর্যন্ত। তার আগে ১৪ ও ১৫ জুন (শুক্র ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি। সে হিসাবে মোট পাঁচ দিনের ছুটি মিলছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের।
মুসলমানদের জন্য দুটি আনন্দের দিনের অন্যতম ঈদুল আজহা। ঈদুল ফিতরের দুই মাস ১০ দিন পর মুসলমানরা ঈদুল আজহা পালন করে থাকেন। হিজরি ক্যালেন্ডারের জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা পালন করা হয়। তবে পশু কোরবানি করা যায় ৩ দিন ধরে। সেটা হচ্ছে ১০, ১১ ও ১২ জিলহজ পর্যন্ত।







































