
নারায়ণগঞ্জে এক বিশাল জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান পতিত আওয়ামী লীগ সরকার ও তাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন। শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা ও মহানগরীর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ইসদাইরে ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে তিনি বলেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পালিয়ে গিয়েও উসকানিমূলক কথা বলে দেশে উত্তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছেন। তবে মুক্তিপাগল জনগণ এসব সহ্য করবে না।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার দেশকে দুর্নীতি, বৈষম্য ও দুঃশাসনের মাধ্যমে বিপর্যস্ত করেছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও বিচার বিভাগকে ধ্বংস করেছে। গত ১৫ বছরে তারা ২৬ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে, যা ফিরিয়ে এনে জনগণের কল্যাণে ব্যয় করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের ছাত্র-জনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে। আমরা বিচার চাই, তারপর সংস্কার, তারপর নির্বাচন।
নারায়ণগঞ্জের অতীত সন্ত্রাসী কার্যকলাপের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের আমীর বলেন, এই শহরকে এক সময় সন্ত্রাসের রাজধানী বানিয়ে রাখা হয়েছিল। আমাদের তৎকালীন আমীর গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ৭২ ফিট লম্বা ব্যানার টাঙানো হয়েছিল, যেখানে লেখা ছিল ‘নারায়ণগঞ্জে তার প্রবেশ নিষিদ্ধ।’ শামীম ওসমানের নেতৃত্বে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাস কখনো প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। যারা জুলুম করে, তারা দুনিয়াতেও পরিণতি ভোগ করে, আর আখিরাতে তাদের কঠিন শাস্তি হবে।
জামায়াতের আমীর বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে সর্বপ্রথম শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারে হাত দেবো। আওয়ামী লীগ সরকার দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। আমরা এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলব, যেখানে শিক্ষাজীবন শেষে কেউ বেকার থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, নারীদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। কৃষি ও শিল্পকে সমৃদ্ধ করে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা মজবুত করা হবে। বৈষম্যহীন একটি সমাজ গঠনে জামায়াত কাজ করে যাবে।
জনসভায় বক্তারা নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন আলোচিত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান। বিশেষ করে রিয়া গোপ, ত্বকী হত্যা এবং র্যাবের মাধ্যমে সংঘটিত সাত খুনের বিচার কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়।
জামায়াতে ইসলামীর এ জনসভায় বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ট্রাস্টের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি জয় কে রয় চৌধুরী বাপ্পী বলেন, ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমরা গত ১৫ বছর একসাথে চা খেতে পারিনি। কেন তা আমাদের অজানা নয়। এই সম্প্রীতির শহর নারায়ণগঞ্জে কি আমরা এই ধরনের বৈষম্য দেখতে চেয়েছি? চাইনি কারণ আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করি। একই সাথে পাশাপাশি শ্মশান, গোরস্থান। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্ট্রান ও সর্বপরি মুসলিম সম্প্রদায়ের মাটি। এই সম্প্রীতি আমরা বজায় রাখবো।
জনসভায় হিন্দু নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন, মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিষ্ণুপদ সাহা, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক সুশীল প্রমুখ।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামের আমীর মুহাম্মদ আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে আয়োজিত জনসভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, ঢাকা দক্ষিণ অঞ্চলের পরিচালক সাইফুল আলম খান মিলন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মো. সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর সাবেক আমীর মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ, জেলা জামায়াতের আমীর মমিনুল হক সরকারসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
জনসভায় বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে অংশগ্রহণ করেন নেতাকর্মীরা। তাদের হাতে জাতীয় পতাকা, দলীয় পতাকা ও প্রতীক দাঁড়িপাল্লা দেখা যায়। সমাবেশকে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে পরিচালনার জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।





























