
আবুল কালাম আজাদ বরুড়াঃ-
কুমিল্লার বরুড়ায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৪ উদযাপন করা হয়েছে। রোজ মঙ্গলবার প্রথম প্রহরে বরুড়া উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও বঙ্গবন্ধু ম্যুরালে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান ও হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে ভোর ৬.৩০ মিনিটে জাতীয় সংসদ সদস্য কুমিল্লা-৮ বরুড়ার সংসদ সদস্য আবু জাফর মোহাম্মদ শফি উদ্দিন শামীম ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ এন এম মইনুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ অন্যান্য সকলকে নিয়ে পুষ্প স্তবক অর্পন করে। পরে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গার্ড গাইডস, স্কাউট দল, বিএনসিসি, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সহ পুলিশ বাহিনী সদস্যদের অংশ গ্রহণে সকাল ৮.৩০ মিনিটে আনুষ্ঠানিক ভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও শারিরীক কসরত সহ জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এদিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নু-এমং মারমা মং এর সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ এন এম মইনুল ইসলাম। পৌরসভার মেয়র মোঃ বকতিয়ার হোসেন ( বখতিয়ার ) এ সময় বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুন নাহার, বরুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) আহমেদ হাছান, বরুড়া থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ কামরুল হাসান সোহেল, উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নাসরিন সুলতানা তনু, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আফরোজা বেগম, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ বোরহান উদ্দিন , বরুড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মোঃ জালাল উদ্দিন, সহ প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। পরে এদিন দুপুর ২.৩০ মিনিটে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে এ এন এম মইনুল ইসলাম চেয়ারম্যান বক্তব্যে বলেন আজ একটি অবিস্মরণীয় দিন। এ দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলার মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতার লাল সূর্য। স্বশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করি ৩০ লক্ষ শহিদ এবং দুই লক্ষ নির্যাতিতা মা-বোনকে, যাঁদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। আরও স্মরণ করছি বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ ১৫ আগস্টের সকল শহিদ ও জাতীয় চার নেতাকে। স্বশ্রদ্ধ সালাম জানাই সে সব অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিকামী জনতার প্রতি, যারা দেশমাতৃকার জন্য জীবন বাজি রেখে লড়েছেন এবং বুকের তাজা রক্ত দিয়ে বাংলার মাটিকে হানাদারমুক্ত করেছেন। যারা স্বজন হারিয়েছেন, নির্যাতিত হয়েছেন তাদের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা। আজকের এ দিনে বরুড়া উপজেলার সকল শহিদ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি জানাচ্ছি গভীর শ্রদ্ধা। অনেক রক্ত আর ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা বাঙালি জাতির মহত্তম অর্জন। এ অর্জনকে অর্থপূর্ণ করতে সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে হবে, স্বাধীনতার চেতনাকে ধারণ করতে হবে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে পৌঁছে দিতে হবে। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের মহান স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য একটি সুখী ও সমৃদ্ধ দেশ গড়া। সে লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান সরকার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। আমরা বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের 'সোনার বাংলা' তথা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ঘোষিত উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ' বিনির্মাণে সক্ষম হবো। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে বরুড়া উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় আপনাদের সকলকে স্বাগত জানাচ্ছি। আজ আমাদের গর্বের ও গৌরবের দিন। পরিশেষে অনুপ্রেরণা ও গৌরবের এ মাহেন্দ্রক্ষণে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে বরুড়াসহ সমগ্র দেশবাসীর সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনা। বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বলেন আপনারা এ দেশ স্বাধীন করছেন আমি যে কত দিন বাঁচি আপনাদের সাথে আছি থাকবো







































